ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে পিরোজপুরের ১০ গ্রামে আগাম ঈদ


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ১০:৪৪ এএম

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পিরোজপুর জেলার তিনটি উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন প্রায় ৮ শতাধিক পরিবার। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে এসব গ্রামের মানুষের ঈদ উদযাপন শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী এলাকার মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ, মঠবাড়িয়া উপজেলার কচুবাড়িয়া গ্রামের হাজী ওয়াহেদ আলী হাওলাদার বাড়ি, নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আল-আমিন জামে মসজিদ এবং মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামের খন্দকার বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার শুরেশ্বর গ্রামের হজরত মাওলানা আহমেদ আলী শুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা প্রায় ১৫০ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন। তাদের অনুসারীরা বাংলাদেশে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর না করে সৌদি আরবের চাঁদ দেখার হিসাব অনুযায়ী ধর্মীয় আচার পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তারা একদিন আগে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন।

পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা এসব অনুসারীদের মধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া, কচুবাড়িয়া, সাপলেজা, ঝাটিবুনিয়া, খেতাছিড়া ও চকরগাছিয়া গ্রামের প্রায় ৭ শতাধিক পরিবার রয়েছে। এছাড়া কাউখালী উপজেলার বেতকা, শিয়ালকাঠী ও পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০টি পরিবার এবং নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের ৩৫টি পরিবারও এই রীতি অনুসরণ করে আসছে। পাশাপাশি সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের কদমতলা ও একপাই জুজখোলা গ্রামের প্রায় ৬০টি পরিবারও একইভাবে ঈদ উদযাপন করেছে।

কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জহিরুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টায় তাদের মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক পরিবার অংশ নেয়। তিনি বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

অন্যদিকে, নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আল-আমিন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কামরুজ্জামান বলেন, তারা শুরেশ্বর পীরের অনুসারী হিসেবে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ বছর ধরে এই নিয়ম অনুসরণ করছেন। প্রতি বছরই তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন।

শরীয়তপুরের শুরেশ্বর দরবার শরীফের মুরিদ এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা মিরাজ খন্দকার জানান, তাদের পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রীতি চলে আসছে। তার দাদার বাবার সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছেন। তিনি বলেন, মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রায় ৭ শতাধিক পরিবার গত ৮০ বছর ধরে এভাবে ঈদ উদযাপন করছে।

স্থানীয়দের মতে, এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। তাই তারা এই নিয়ম অনুসরণ করে আসছেন। যদিও দেশের অধিকাংশ মানুষ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ উদযাপন করেন, তবুও এই অঞ্চলগুলোর কিছু পরিবার আলাদা হিসাব অনুসরণ করে ঈদ পালন করে থাকে।

সব মিলিয়ে, পিরোজপুরের এসব গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন একটি দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য হিসেবে চলে আসছে, যা প্রতি বছরই স্থানীয়ভাবে ভিন্নমাত্রার আগ্রহ ও আলোচনা সৃষ্টি করে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর