অনলাইন রিপোর্টার
ঈদুল ফিতরের সাত দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার সরকারি অফিস, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন তেল পাম্পে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা গেছে। সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তেলের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় গেলে দেখা গেছে, তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনের পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে যানবাহনের সারি লেক রোড পর্যন্ত পৌঁছেছে। সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনের সারি মোহাম্মদপুর টাউন হলের বাইরে পর্যন্ত বিস্তৃত।
মানিকগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ঢাকায় এসেছেন শফিউল্লাহ। তিনি বলেন, “গাবতলী থেকে আসাদগেট পর্যন্ত পাঁচটি পাম্পে তেল খুঁজেছি, সবই বন্ধ। বনশ্রী পর্যন্ত যেতে হবে, কিন্তু মোটরসাইকেলের তেল শেষ। তাই অপেক্ষা করতে হবে।”
তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ফাত্তাহ আজম জানান, গত রাতেই পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। নতুন সরবরাহ দুপুরের পর আসবে। পাম্প সেই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন থেকে তেল নিতে সকাল ৬টায় গাড়ি নিয়ে সারি ধরেছেন আবুল কাশেম। তিনি বলেন, “সকাল ৯টার দিকে পাম্পে পৌঁছালেও তেল শেষ হয়ে গেছে। এখনো নাশতা করতে পারিনি। মাথা ব্যথা করছে। দুপুরের পর তেলের গাড়ি আসবে, তাই অপেক্ষা করছি।”
বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের তেল সরবরাহও সকালে বন্ধ ছিল। এখানে তেলের জন্য সারি জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত বিস্তৃত। মো. তাশরিফ হাসান গাজীপুর থেকে এসেছেন। তিনি জানান, গাজীপুরের কোনো পাম্পে তেল পাননি। সকাল ১০টায় অফিস শুরুর কথা, কিন্তু তেল না পেয়ে অফিসে যেতে পারছেন না।
রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। চালকরা জানিয়েছেন, তেলের জন্য পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সারি অনেক পাকা রাস্তা জুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় যানজটের সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটির পর তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তেলের গুদাম থেকে নতুন সরবরাহ আসা পর্যন্ত কয়েকটি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। রাজধানীর অন্যান্য এলাকার পাম্পেও একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এই পরিস্থিতি শহরের জনগণের জন্য সমস্যা তৈরি করেছে। যাত্রী ও অফিসগামীরা পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, দুপুরের পর নতুন সরবরাহ আসার সঙ্গে সঙ্গে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।