ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংযমের আহ্বান অর্থমন্ত্রীর


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:২৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে দায়িত্বশীল আচরণ এবং সঠিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আইএমএফ কী ধরনের পরামর্শ দিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই রমজান মাস ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এরপরও জ্বালানি সংকট থাকা সত্ত্বেও পরিবহণ খাতে কোনো বড় ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি। ঈদের সময় মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পেরেছে, ভাড়া বাড়েনি এবং দ্রব্যমূল্য তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে পোশাক খাতে যে অস্থিরতা দেখা যায়, এবার তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। এর পেছনে সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি দাবি করেন, সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলেই রমজানজুড়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

জ্বালানি তেলের বিষয়েও তিনি বলেন, বড় ধরনের সংকট থাকা সত্ত্বেও তেলের অভাবে কোনো পরিবহণ বন্ধ হয়নি। পাশাপাশি গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের বেতনও সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে। এতে শ্রমিক অসন্তোষ বা অস্থিরতা তৈরি হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশের অর্থনীতি বেশ দুর্বল অবস্থায় ছিল। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঘোষণাপত্রে যে অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাংক খাত বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, শেয়ারবাজারেও স্থিতিশীলতা নেই এবং রাজস্ব আহরণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এসব সমস্যা সমাধানে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

দেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক প্রকল্প থমকে আছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বেশ কিছু প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়ে। এসব প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করতে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।

আইএমএফের ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কোনগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব এবং কোনগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ঋণের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আগামী জুলাইয়ে পরবর্তী মূল্যায়নের সময় নির্ধারণ করা হবে।

সামগ্রিকভাবে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে জনগণকেও সংযমী আচরণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর