ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ

ভয়াল ২৫ মার্চ আজ, জাতীয় গণহত্যা দিবস


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৯:৪৮ এএম

ভয়াল ২৫ মার্চ আজ (বুধবার), জাতীয় গণহত্যা দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৯৭১ সালের এই দিনটি এক বিভীষিকাময় ও বেদনাবিধুর স্মৃতি বহন করে। স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাক্কালে এই রাতেই পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নৃশংস গণহত্যা চালায়। সেই কালরাতের স্মরণে দিনটি বাংলাদেশে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে একটি পরিকল্পিত সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত বাঙালি জাতিকে দমন করা। রাতের অন্ধকারে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হামলা চালানো হয়। ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর চালানো হয় বর্বর হত্যাযজ্ঞ।

সেই রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে তৎকালীন ইপিআরের সদস্যদের ওপর ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক, সাধারণ মানুষসহ অসংখ্য নিরপরাধ বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ইতিহাসে এই রাতটি বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে ভয়াল ও শোকাবহ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই দিনের নির্মম হত্যাযজ্ঞ পুরো জাতিকে স্তব্ধ ও শোকাহত করে দিয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। পাকিস্তানি বাহিনীর এই গণহত্যা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে। এ সময় ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এরপর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং সশস্ত্র প্রতিরোধে অনুপ্রাণিত করে।

তিনি বলেন, সেই ঘোষণার মধ্য দিয়েই শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা পরিকল্পিতভাবে বাঙালি জাতিকে দমন করার উদ্দেশ্যে এই নৃশংস অভিযান পরিচালনা করেছিল। তিনি বলেন, কেন এই হত্যাযজ্ঞ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি—সে বিষয়টি ইতিহাসের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট। এই প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয় দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দেয়।

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সবাইকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত, সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর