অনলাইন রিপোর্টার
ঈদুল ফিতরের ছুটির পর ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকায় সড়কপথে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এড়ানো এবং বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনো অর্থ আদায় না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদ পরবর্তী সময়ে সড়কপথে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে চালকদের জন্য অতিরিক্ত গতি পরিহার, নিয়ম মেনে গাড়ি চালানো এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যাত্রাপথে বয়স্ক, নারী ও শিশু যাত্রীদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হবে। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে চালক ও সহকারীদের দায়িত্বশীল আচরণ করা আবশ্যক। নিরাপদ যাত্রার জন্য সকল পরিবহন খাতের পক্ষ থেকে এই সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত কোনো অর্থ যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না। পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টরা যাতে ভাড়া সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম না করে তা নিশ্চিত করার জন্য তদারকি জোরদার করা হবে। এই নির্দেশনার মাধ্যমে যাত্রীদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম এড়ানো সম্ভব হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদের পর ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পরিবহন খাতের সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এতে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তারা আরও উল্লেখ করেছে, সড়ক দুর্ঘটনা কমানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবহন খাতের দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা মানার মাধ্যমে কেবল যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নয়, বরং সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ঈদের পর ঢাকা-মহাসড়কগুলোতে যাত্রীর চাপ সর্বোচ্চ থাকে। তাই চালক ও পরিবহন মালিকদের দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। সকলকে সচেতন না হলে ছোট ছোট লাপরবায়ও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির এই নির্দেশনা স্থানীয় পরিবহন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সকলকে নির্দেশনার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর