ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় এক পাম্প মালিকের বাসার ভেতরে মাটির নিচে স্থাপন করা গোপন ট্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে মোট ২৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে উপজেলার পয়ারী রোডের আমুয়াকান্দা এলাকায় মেসার্স পপি ট্রেডার্স নামের একটি মিনি পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এ জ্বালানি জব্দ করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পাম্প মালিকের বাসার ভেতরে মাটির নিচে স্থাপন করা দুটি ট্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি দুটি গাড়িতেও অবৈধভাবে জ্বালানি সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয় প্রশাসন।
উদ্ধারকৃত জ্বালানির মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল এবং ১৯ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব জ্বালানি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া ইসলাম সীমা। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলাম এবং ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা জ্বালানি সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এসব জ্বালানি স্থানীয় চালু পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা জানান, গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি এই জ্বালানি মজুত করে আসছিলেন। পরবর্তীতে দাম বাড়লে তা বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এই মজুত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিয়ে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের অবৈধ মজুত ও মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, এর আগে শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় পৃথক আরেকটি অভিযানে ২৩০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। প্রশাসন বলছে, সারাদেশেই জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে কৃত্রিম সংকট কমবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে।
আকাশজমিন / আরআর