ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

১১ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ, প্রজ্ঞাপন জারি


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৯ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪৭ পিএম

জনপ্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে দেশের ১১টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে কর্মরত বর্তমান জেলা প্রশাসকদের প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকদের অধিকাংশই এতদিন ঢাকায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। প্রশাসনের কেন্দ্র থেকে মাঠ প্রশাসনে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে তাঁদের জেলা পর্যায়ে পদায়ন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজশাহীতে জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শহীদুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রাজশাহীর উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খুলনায় জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব হুরে জান্নাত। শিক্ষা প্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় জেলার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁর বিশেষ ভূমিকা থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লুৎফুন নাহারকে। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা জেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাদারীপুর জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অর্থ বিভাগের উপসচিব মর্জিনা আক্তার। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা জেলার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সরকারি প্রিন্টিং প্রেসের উপপরিচালক মো. আবু সাঈদ। প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চাঁদপুর জেলার জেলা প্রশাসক করা হয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব আহমেদ জিয়াউদ্দিন রহমানকে। জ্বালানি খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

হবিগঞ্জে জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব জি এম সরফরাজ। কেন্দ্রীয় প্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতা মাঠ প্রশাসনে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নরসিংদীর জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইসরাত জাহান কেয়া। শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা জেলার কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শ্রমিক কল্যাণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মেহেরপুর জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শিল্পী রানী রায়। সংস্কৃতি খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব মুহা. রাশেদুল হক প্রধান। বিদ্যুৎ খাতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বান্দরবানে জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক মো. সানিউল ফেরদৌসকে। পার্বত্য অঞ্চলের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যেসব জেলা প্রশাসক এতদিন এসব জেলায় দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাঁদের প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক কাঠামোতে ভারসাম্য আনা এবং দক্ষ কর্মকর্তাদের যথাযথ স্থানে পদায়নের অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনে গতি আনতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদে রদবদল করা হচ্ছে। এর আগে ১৫ মার্চ গাজীপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও নেত্রকোনা জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও ১১টি জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হলো।

প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠ প্রশাসনে দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন জেলা প্রশাসকদের ওপর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করার বড় দায়িত্ব বর্তাবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সাধারণ মানুষও নতুন জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে গতি আসার প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে তারা আশাবাদী।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, প্রশাসনে এই রদবদল সরকারের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে কেন্দ্র ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকদের কার্যকর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সার্বিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর