ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

ঈদযাত্রায় ৩৭৭ দুর্ঘটনায় ৩৯৪ মৃত্যু: যাত্রী কল্যাণ সমিতি


  • আপলোড সময় : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:২৩ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে গত ১৫ দিনে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি। সড়কে ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫১ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৬ জন।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে যাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার দিন ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই ১৫ দিনে সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে সড়কপথে ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত হয়েছেন এবং ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। গত বছর ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হয়েছিলেন। সেই তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা প্রায় ২১ শতাংশ বেড়েছে।

রেলপথেও এ সময়ে বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২২৩ জন। অন্যদিকে নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২ হাজার ১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারও সড়ক দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত এবং ১১৪ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ, নিহতের ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং আহতের প্রায় ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

যানবাহনের ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৭ দশমিক ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ বাস, ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস, ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল।

দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং প্রায় ২২ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, চলমান ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা থাকলেও গত ১৫ দিনে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা তার চেয়েও উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগ করেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের প্রভাবের কারণে এবারও ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় যাত্রীদের পক্ষে কথা বলার মতো কোনো নাগরিক প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ফলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি মনে করে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কঠোর আইন প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তা না হলে প্রতি বছর ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর