ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত ভবনগুলোর আসবাবপত্র কেনাকাটায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা নয়-ছয় বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অতীতে আলোচিত ‘বালিশ, পর্দা বা ছাগল কাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে চিফ হুইপ এ হুঁশিয়ারি দেন। বৈঠকে আসবাবপত্র কেনাকাটার ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ক্রয়মূল্য যৌক্তিক রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবনের সংস্কার ও মেরামত কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এসব বাসা বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শেরে-ই-বাংলা নগরের এমপি হোস্টেলের ১৫৬টি অফিস কক্ষের সংস্কারের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। সংসদ ভবনের ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য দুটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা চিহ্নিত করতে রকিবুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। অপরদিকে ক্যান্টিনের খাবার, পানির মান এবং এমপি ভবনের আসবাবপত্রের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য নায়ার ইউসুফ আহমেদকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি করা হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের জন্য ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়া এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ বলেন, সংসদ ভবনের সকল প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। সব কার্যক্রম নিয়মমাফিক সম্পন্ন না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে সংসদ সদস্যদের সুবিধা নিশ্চিত করা, ত্রুটিপূর্ণ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা এবং ভবন ব্যবস্থাপনায় গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখা।