ক্রীড়া ডেস্ক
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির জন্য আবারও ভেঙে গেল বিশ্বকাপ স্বপ্ন। প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ হারাল ইতালি। ফলে আগামী বিশ্বকাপেও দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম সফল এই দলটিকে।
জেনিৎসার বিলিনো পোলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরা। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১–১ সমতায় থাকার পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ৪–১ ব্যবধানে জয় পেয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে নেয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইতালি। প্রথমার্ধের ১৫তম মিনিটেই দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড ময়েস কিন। তার এই গোল ইতালির সমর্থকদের নতুন করে আশাবাদী করে তোলে। ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার স্বপ্ন তখন যেন হাতের নাগালেই ছিল আজ্জুরিদের।
তবে ম্যাচের শেষদিকে প্রথমার্ধেই বড় ধাক্কা খায় ইতালি। ৪২তম মিনিটে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। বসনিয়ার অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এডিন জেকো বিপজ্জনকভাবে ডি-বক্সের দিকে এগিয়ে গেলে তাকে ফাউল করেন বাস্তোনি। রেফারি কোনো দ্বিধা না করে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইতালিকে।
একজন কম নিয়ে খেলায় প্রথমার্ধের শেষদিকে বসনিয়া আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। তবে ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা অসাধারণ কিছু সেভ করে দলকে তখনো এগিয়ে রাখেন। তার দৃঢ় গোলকিপিংয়ের কারণে প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে পারেনি বসনিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। ইতালির রক্ষণভাগ তখন বেশ চাপে পড়ে যায়। জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা কয়েকটি নিশ্চিত গোল বাঁচালেও শেষ পর্যন্ত ৮২তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি।
এডিন জেকো এবং এরমেদিন ডেমিরোভিচদের সম্মিলিত আক্রমণ থেকে চমৎকার এক গোল করে বসনিয়া সমতায় ফেরে। সেই গোলের পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দলই বেশ কয়েকটি আক্রমণ তৈরি করলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচের ফল নির্ধারণের জন্য টাইব্রেকারের দ্বারস্থ হতে হয়।
টাইব্রেকারে প্রথম শটেই গোল করেন বসনিয়ার বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ। অন্যদিকে ইতালির হয়ে প্রথম শট নিতে এসে মিস করেন পিও এস্পোসিতো। দ্বিতীয় শটে দুই দলই গোল পেলেও তৃতীয় শটে বসনিয়া গোল করলেও ইতালির ব্রায়ান ক্রিস্টান্তে শট মিস করেন। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ শটে গোল করে ৪–১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে বসনিয়া। আর ইতালির জন্য এটি বড় এক হতাশার অধ্যায় হয়ে রইল। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলো, যা ইতালিয়ান ফুটবলের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।
আকাশজমিন / আরআর