দেশে আবারও বাড়ানো হয়েছে জেট ফুয়েলের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এপ্রিল মাসের জন্য বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। নতুন ঘোষণায় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এক লিটারে বেড়েছে প্রায় ২৫ টাকার বেশি, যা দেশের বিমান খাতে নতুন করে ব্যয় চাপ তৈরি করতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম প্রতি লিটার ১ দশমিক ৩২১৬ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি বিমান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, বিমান পরিচালনার মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। ফলে জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপর পড়তে পারে। বিমান সংস্থাগুলো বাড়তি খরচ সমন্বয় করতে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে করে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হতে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবেও দেশের জ্বালানি খাতে এই পরিবর্তন এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন করে দাম সমন্বয় করতে হয়।
এদিকে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় দেশের পর্যটন শিল্পেও কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিমান ভাড়া বাড়লে ভ্রমণ ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা পর্যটকদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ পর্যটনে এর প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে বিমান সংস্থাগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একদিকে বাড়তি পরিচালন ব্যয়, অন্যদিকে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার বিষয়—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিমান খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে শুধু বিমান ভাড়া নয়, কার্গো পরিবহন খরচও বেড়ে যেতে পারে। এতে করে আমদানি-রপ্তানি খাতে প্রভাব পড়তে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
তবে বিইআরসি সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে থাকে। ফলে এই মূল্যবৃদ্ধিও বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এর ফলে বিমান ভাড়া বাড়তে পারে এবং ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত বিমান ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য এটি বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত দেশের বিমান খাত, পর্যটন শিল্প এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বিমান সংস্থাগুলো কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়ে।