ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

সংসদে ৮টি বিল পাস, বিতর্ক ও হাস্যরস একসঙ্গে


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৩৮ পিএম

জাতীয় সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সকালে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মোট আটটি বিল কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দিতে এসব বিল সংসদে উত্থাপন ও পাস করা হয়েছে। বিলগুলোর ওপর কোনো দফাওয়ারি সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই দ্রুত পাস করা হয়।

সংসদের কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা একে একে বিলগুলো উত্থাপন করেন এবং স্পিকারের অনুমতিক্রমে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে তা অনুমোদিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় সংসদের সময় সাশ্রয় হলেও কিছু বিষয়ে বিতর্ক ও হাস্যরসের ঘটনাও তৈরি হয়, যা সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ভিন্নমাত্রার প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করে। বাকি ২০টির মধ্যে চারটি বাতিল করার এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে পরবর্তীতে নতুন বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে আজকের অধিবেশনে আটটি বিল পাস হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ অন্যতম। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এই বিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরপর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান পৃথকভাবে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল এবং রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। প্রতিটি বিলই কণ্ঠভোটে পাস হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) সংশোধনী বিলটি পাসের সময় আইনমন্ত্রী বলেন, এই আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় ‘গুম’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যারা সরকার গুম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন, তাদের এই আইনটি ভালোভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। তাঁর বক্তব্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা ছিল।

তবে বিলটি পাস হওয়ার পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিল পাসের সময় এ ধরনের মন্তব্য করা অনাহূত এবং নির্দিষ্ট সময় এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদের বাইরে বিভিন্ন মহল থেকে গুমের বিচার নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেয়েছেন। এতে করে সংসদে কিছু সময়ের জন্য আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, সংসদের বাইরে বিভিন্ন বক্তব্য থাকলেও সংসদের আলোচনাকে সংসদ সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। তিনি সংসদের কার্যক্রমকে বিধি অনুযায়ী পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এরপর অন্যান্য বিল পাসের কার্যক্রম চলতে থাকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত কয়েকটি বিল পাসের সময় সংসদে কিছুটা হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে তিনটি বিল উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এই বিলগুলোর মধ্যে ছিল ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল এবং শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল। এর মধ্যে শেষের দুটি বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়।

শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী বিলটি উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুটা হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘খুব দুঃখের ব্যাপার! এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে।’ তাঁর এই মন্তব্যে সংসদে উপস্থিত অনেক সদস্য হাসিতে ফেটে পড়েন এবং কিছু সময়ের জন্য পরিবেশ হালকা হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ সংসদে উত্থাপন করেন এবং সেটিও কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সব মিলিয়ে দিনের অধিবেশনে একদিকে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত অগ্রগতি হয়েছে, অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক বিতর্ক ও হাস্যরসাত্মক মুহূর্তও সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের এই অধিবেশন দেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলনও তুলে ধরেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর