সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 44
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
নিহত শিশুটির নাম মালিহা বিনতে মাহফুজ (১.৫)। সে উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের ভয়ানগর গ্রামের মুকুল ও মাহফুজ দম্পতির মেয়ে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে শিশুটির শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়। প্রথমে তাকে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে আইসিইউতে রেখে তার চিকিৎসা চলছিল।
উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সবিতা প্লাবনী সুইটি জানান, ঢাকায় নেওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর পর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ১০৪ জন শিশু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৭৭ জন শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে ২৭ জন শিশু জেলার ছয়টি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সময়মতো টিকা না পেলে শিশুদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই প্রতিটি শিশুকে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়াসহ হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। দেরি হলে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একদিকে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় শোক, অন্যদিকে বাড়তে থাকা সংক্রমণ—সব মিলিয়ে উল্লাপাড়া ও আশপাশের এলাকায় এখন উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।