চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে জয় পেলেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো বার্সেলোনাকে। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জয় পেলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে কাতালান ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। প্রথম লেগে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার চাপ কাটিয়ে উঠতে শুরু থেকেই গোলের চেষ্টা চালায় তারা। মাত্র ৪ মিনিটেই তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল গোল করে দলকে এগিয়ে দেন, যা ম্যাচে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনে।
এরপর দারুণ সমন্বিত আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। ফেররান তোরেস দানি ওলমোর অ্যাসিস্ট থেকে গোল করলে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন ২-২ সমতায় ফিরে আসে। তখন ম্যাচে বার্সার সমর্থকদের মধ্যে আশার ঢেউ দেখা দেয় এবং সেমিফাইনালের স্বপ্ন জোরালো হয়।
তবে সেই আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৩১তম মিনিটে আতলেতিকো মাদ্রিদ ঘুরে দাঁড়ায়। মার্কোস ইয়োরেন্তের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আদেমোলা লুকমান। এই গোলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং দুই লেগ মিলিয়ে বার্সাকে আবার পিছিয়ে ফেলে।
বিরতির পর বার্সেলোনা আবারও আক্রমণ বাড়ায়। ফেররান তোরেসের আরেকটি গোল ভিএআর (ভিডিও রেফারি ব্যবস্থা) পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে বাতিল হলে বড় ধাক্কা খায় দলটি। ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় চাপ আরও বেড়ে যায়।
পরবর্তীতে রক্ষণভাগে বিপর্যয় নেমে আসে বার্সেলোনার ওপর। রক্ষণের এক ভুলে এরিক গার্সিয়া সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বার্সা। এরপর থেকে ম্যাচে ফিরে আসা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
শেষ দিকে বদলি হিসেবে রবার্ট লেভানদোভস্কি ও মার্কাস র্যাশফোর্ড মাঠে নামলেও আতলেতিকো গোলরক্ষকের দৃঢ় রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। ফলে ম্যাচে জয় পেলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয় বার্সেলোনাকে।
দীর্ঘ ৯ বছরের অপেক্ষা শেষে সেমিফাইনালে উঠে যায় আতলেতিকো মাদ্রিদ। অন্যদিকে বার্সেলোনার জন্য এটি আবারও এক হতাশাজনক অধ্যায় হয়ে থাকল, যেখানে শুরুটা ভালো হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।