ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ আসিফ নজরুলের নির্দেশেই বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে ইউএনডিপির সাহায্য চান এলজিআরডি মন্ত্রী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১ ওবায়দুল কাদেরের সম্পদের পরিমাণ কত? সারের ডিলার কমিশন বাড়লেও কৃষকের কেনা দাম একই থাকছে কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'যাচাই না করা' সংবাদে সাংবাদিকদের হতে পারে ১০ বছরের জেল সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

ইউরোপে আলোচনায় স্পেনের নতুন সিদ্ধান্ত


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১২:১৯ পিএম

স্পেন ইউরোপে কঠোর অভিবাসন নীতির ধারার বিপরীতে গিয়ে প্রায় ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশটির সরকারের এই উদ্যোগকে ইউরোপীয় অভিবাসন নীতিতে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে স্পেনে বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীরা আইনি মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের অনুমোদনে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অভিবাসীদের ধাপে ধাপে বৈধ বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের প্রথমে এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তা স্থায়ী বসবাসে রূপ নিতে পারে। আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে থাকার প্রমাণ এবং কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার সনদ দেখাতে হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত এই আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে।

বৈধতা পেলে এসব অভিবাসী স্পেনের শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তারা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাওয়ার অধিকার অর্জন করবেন। সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্পেন সরকার দাবি করেছে, এসব অভিবাসী ইতোমধ্যেই দেশটির অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বিশেষ করে শ্রমঘাটতি পূরণ এবং জনসংখ্যার বার্ধক্যজনিত সংকট মোকাবিলায় তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তাই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো মনে করছে, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করবে। তাদের দাবি, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এ ধরনের বৈধতা প্রদান দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে স্পেনের ক্যাথলিক চার্চসহ কিছু সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়া একটি ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।

ইউরোপের অন্যান্য দেশ যখন অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করছে, তখন স্পেনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ইউরোপের অভিবাসন নীতিতে ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর