ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ আসিফ নজরুলের নির্দেশেই বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে ইউএনডিপির সাহায্য চান এলজিআরডি মন্ত্রী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১ ওবায়দুল কাদেরের সম্পদের পরিমাণ কত? সারের ডিলার কমিশন বাড়লেও কৃষকের কেনা দাম একই থাকছে কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'যাচাই না করা' সংবাদে সাংবাদিকদের হতে পারে ১০ বছরের জেল সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

ডট বলের চাপে আবারও ভেঙে পড়ল বাংলাদেশ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১:৩৫ পিএম

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইনিংসে আবারও পুরোনো এক সমস্যা স্পষ্ট হয়ে উঠল—ডট বলের চাপ আর মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা। মিরপুরে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। ২৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১২৪ রান তুলে জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এরপরই ঘটে ছন্দপতন।

এরপরের অংশে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো বোলিংয়ের সামনে পুরোপুরি থমকে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। টানা ৯০টি বলে কোনো বাউন্ডারি না আসা যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২৯১ বলের মধ্যে ১৬৬টি বলই ছিল ডট—অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি বলেই কোনো রান নিতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা।

এই ডট বলের চাপ নিয়েই ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করেন সাইফ হাসান। তিনি বলেন, দৌড়ে রান নেওয়া ও ইনিংসের গতি ধরে রাখার জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন আছে। তবে উইকেট কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মিডল অর্ডারের এই ব্যর্থতা নতুন কিছু নয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য এটি এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাপের মুহূর্তে ইনিংস টেনে নেওয়া কিংবা রানের গতি বাড়ানোর দায়িত্ব থাকলেও মিডল অর্ডার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে মিডল অর্ডারে নামা ১৩ জন ব্যাটসম্যানের কেউই সেঞ্চুরি করতে পারেননি। এই সময়ে তাদের সম্মিলিত গড় মাত্র ২৩.৪৪। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এমন দুর্বল পারফরম্যান্স খুব কমই দেখা যায়। এমনকি সব ওয়ানডে খেলুড়ে দলের মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে নিচে রয়েছে কেবল একটি দল।

এই সময়ে একমাত্র ইতিবাচক দিক তাওহিদ হৃদয়ের পারফরম্যান্স। সেঞ্চুরি না পেলেও তিনি ধারাবাহিকভাবে রান করছেন। গত এক বছরে মিডল অর্ডারে ১০ ইনিংসে তার গড় ৪১.৩৩। দলের সাতটি হাফ সেঞ্চুরির মধ্যে পাঁচটিই এসেছে তার ব্যাট থেকে।

অন্যদিকে আফিফ হোসেনের ব্যাটিং ব্যর্থতা আবারও সামনে এসেছে। পাকিস্তান সিরিজে ফিরেও তিনি বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ দুই ম্যাচে তার স্কোর ছিল ১৪ ও ৫। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৯ বলে করেছেন মাত্র ২৭ রান। মাঝের ওভারে যেখানে রানের গতি বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল, সেখানে তিনি ব্যর্থ হন।

২০২২ সালের আগস্টের পর থেকে আফিফের ব্যাট থেকে কোনো হাফ সেঞ্চুরি আসেনি। জাতীয় দলে ১৭ ইনিংস ধরে তিনি বড় রান করতে পারছেন না। এমনকি অন্তত ১০ ম্যাচ খেলেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার গড়ও সবচেয়ে কম।

মিডল অর্ডারের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও। একের পর এক সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও পারফরম্যান্সে উন্নতি না হওয়ায় সমাধান কোথায়—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর