দেশজুড়ে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ছয়টি মাঠ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিদর্শিত মাঠগুলোর মধ্যে রয়েছে কালশী মাঠ, টিএনটি মাঠ, হাতিরঝিল মধুবাগ, বাসাবো বালুর মাঠ, গোলাপবাগ ও ধুপখোলা খেলার মাঠ। মাঠগুলোর বর্তমান অবস্থা, দখল পরিস্থিতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরিদর্শন কার্যক্রমে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সরকারি বহর ব্যবহার না করে প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা একসঙ্গে একটি মিনিবাসে করে মাঠগুলো পরিদর্শন করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা সৃষ্টি করে। এ উদ্যোগকে সরকারি ব্যয়ের সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, সড়ক ও পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস ছালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা বলেন, নগর ও গ্রামাঞ্চলে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা হবে। তারা আরও বলেন, দখলমুক্ত খেলার মাঠ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। শহরের শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য উন্মুক্ত মাঠের বিকল্প নেই।
কর্মকর্তারা মাঠগুলোর অবৈধ দখল, অব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মাঠগুলোকে আধুনিকায়ন করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
সরকারি সূত্র জানায়, খেলার মাঠ রক্ষা ও উন্নয়নে কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনকে মাঠ সংরক্ষণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
আকাশজমিন / আরআর