ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

দাকোপে সুপেয় পানির তীব্র হাহাকার, দুর্ভোগে দুই লক্ষাধিক মানুষ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:৫৬ পিএম

খুলনার দাকোপ উপজেলায় শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। অনাবৃষ্টি এবং পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় উপজেলাজুড়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য এখন তীব্র হাহাকার চলছে। উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ এক কলস নিরাপদ পানির জন্য মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ কলস নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে প্রতি বছরের মতো এবারও তীব্র পানীয় জলের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি বিক্রির দোকান ও ট্যাপ পয়েন্টগুলোতে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেকেই নৌকা বা ভ্যানে করে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্লান্ট ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক স্থাপন করা হলেও জনসংখ্যার তুলনায় সেগুলো অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দীর্ঘদিন ধরে দাকোপে গভীর নলকূপ সফল না হওয়ায় অগভীর নলকূপই প্রধান ভরসা ছিল। তবে অধিকাংশ নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত লবণ, আর্সেনিক ও আয়রন থাকায় সেগুলো পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) অকেজো হয়ে পড়েছে। সুপেয় পানির অভাবে নিম্নবিত্ত মানুষ বাধ্য হয়ে পুকুর বা ডোবা-নালার অস্বাস্থ্যকর পানি পান করছেন, ফলে এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ভুটেমারি এলাকার গৃহবধূ কবিতা মন্ডল ও শিউলি মন্ডল জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রাস্তার পাশের ট্যাপ থেকে এক কলস পানি সংগ্রহ করতে হয়। সকালে ও বিকেলে দুই-তিন কলস পানি দিয়ে সারা দিনের রান্না ও খাওয়ার কাজ চালাতে হয়। পানি আনতে গিয়ে অনেক সময় সংসারের অন্য কাজও ব্যাহত হয়।

কালাবগী এলাকার রহমত ফকির বলেন, আগের পুকুরটি শুকিয়ে যাওয়ায় এখন দীর্ঘ পথ পেরিয়ে নৌকাযোগে অন্য এলাকা থেকে পানি আনতে হচ্ছে। আমতলা এলাকার শাহনাজ বেগম জানান, মাসে ৩০ টাকা দিয়ে এক দিন অন্তর চার কলস রিফাইন করা পানি পান করেন। ট্যাপ বন্ধ থাকলে বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি ফিটকিরি দিয়ে পান করতে হয়।

উপজেলা উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, সংকট নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৬০১টি রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। তবে এসডিএফ-এর অধীনে নির্মিত ৭২টি আরও প্লান্ট সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে আছে। জেলা পরিষদের কিছু পুকুর থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ সেগুলোর সুবিধা পাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কিছু গভীর নলকূপ সফল হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় আরও গভীর পর্যায়ে টেস্ট টিউবওয়েল স্থাপন করা গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি চাহিদা মেটাতে আরও ট্যাংক বরাদ্দ প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, দাকোপের সুপেয় পানির সংকট এখন মানবিক বিপর্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর