অনলাইন রিপোর্টার
জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে সরকারকে বাধ্য হতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এ পরিস্থিতিতে সরকারের হাতে খুব বেশি বিকল্প ছিল না, তাই দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায়ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সরকারকে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান দাম বৃদ্ধির পরও সরকারকে জ্বালানিতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ বাজারমূল্য সমন্বয়ের পরও প্রকৃত খরচ পুরোপুরি উঠে আসছে না, ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশই এখন জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির চাপের মধ্যে রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে ইতোমধ্যে জ্বালানির দাম প্রায় ৫ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি দেশকেই নিজস্ব নীতি নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দামে এর আংশিক প্রভাব দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বিবেচনায় সরকারকে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বিকল্প জ্বালানি উৎস, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির প্রভাব কমাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সচিবালয়ের বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এমন সময়ে মূল্যবৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন জীবনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি খাতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সরকার চেষ্টা করছে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জনগণের ওপর চাপ কমিয়ে রাখতে।
আকাশজমিন / আরআর