ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ

ফরিতপুরে রাতে ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা- ভোরেই খুনি আটক


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:৫৮ এএম

ফরিদপুর প্রতিনিধি 

ফরিদপুরে ঘটে যাওয়া নৃশংস ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় মূল আসামি আকাশ (২৮) কে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এখনো শোক ও আতঙ্ক কাটেনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানাধীন আলিয়াবাদ ইউনিয়নের খুশির বাজার এলাকার গদারডাঙ্গী গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আকাশের পিতার নাম হারুন মোল্লা।

ঘটনার সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আকাশ হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে কোদাল দিয়ে তার আপন ফুফু রাহেলা বেগম (৫০) এবং দাদি আমেনা বেগম (৭৫)-কে হত্যা করে। এ সময় প্রতিবেশী কাবুল (৪৫) এগিয়ে এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তাকেও কোদাল দিয়ে আঘাত ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় আর্জেন্ট বেগ ও রিয়াজুল নামে আরও দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আকাশ পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় আসামিকে গ্রেফতারের অভিযান। অবশেষে একই রাতেই র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আকাশকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, স্থানীয়রা আকাশকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করলেও বিষয়টি নিশ্চিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর