ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খোঁজ পেলেই ৭ দণ্ডপ্রাপ্তকে গ্রেপ্তার করে আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর সরকারি অফিসে ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক করা খুবই খারাপ: তথ্য উপদেষ্টা জুলাই গণহত্যায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ

কীভাবে ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয় বিদ্যুৎ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৪৪ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

পারমাণবিক বিদ্যুৎ এখন বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হলো পারমাণবিক জ্বালানি, যা থেকে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা হয়। ইউরেনিয়াম নামের একটি প্রাকৃতিক খনিজ থেকে এই জ্বালানি তৈরি হয়, যা পৃথিবীর মাটির নিচে পাওয়া যায়।

ইউরেনিয়াম উত্তোলনের পর একাধিক ধাপে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরপর এটিকে জ্বালানিতে রূপান্তর করা হয়, যাতে ব্যবহারের উপযোগী শক্তি উৎপাদন সম্ভব হয়। এই জ্বালানি প্রথমে ছোট ছোট দানার মতো তৈরি করা হয়, যাকে বলা হয় প্যালেট। প্রতিটি প্যালেট আকারে খুবই ছোট, অনেকটা পেন্সিলের রাবারের মতো।

এই প্যালেটগুলোকে দীর্ঘ ধাতব নলের ভেতরে সাজানো হয়। এই নলকে বলা হয় ফুয়েল ক্ল্যাডিং। প্রতিটি নলের দুই মাথা সিল করে তৈরি করা হয় ফুয়েল রড। এরপর একাধিক ফুয়েল রড একত্রে বর্গাকারে সাজিয়ে তৈরি করা হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। একটি অ্যাসেম্বলিতে সাধারণত ১০০ থেকে ৩০০টি রড থাকতে পারে, যা রিঅ্যাক্টরের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

ফুয়েল অ্যাসেম্বলিগুলো সাধারণত প্রায় ১২ ফুট লম্বা এবং তুলনামূলকভাবে সরু হয়ে থাকে। এগুলো রিঅ্যাক্টরের কোরে স্থাপন করা হয়, যেখানে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটে। একটি রিঅ্যাক্টরের কোরে সাধারণত ১৫০ থেকে ২৫০টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি থাকে।

এই জ্বালানিতে ইউরেনিয়ামের একটি বিশেষ আইসোটোপ ইউ-২৩৫ ব্যবহার করা হয়। ইউ-২৩৫ পরমাণুর মধ্যে নিউট্রন প্রবেশ করলে তা বিভাজিত হয়ে নতুন পরমাণু এবং অতিরিক্ত নিউট্রন সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ফিশন বিক্রিয়া।

এই নতুন নিউট্রন আবার অন্য ইউ-২৩৫ পরমাণুকে বিভাজিত করে। এভাবে ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে একটি শৃঙ্খল বিক্রিয়া, যা থেকে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপ ব্যবহার করে পানি গরম করা হয় এবং বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

পারমাণবিক জ্বালানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, যাকে এনরিচমেন্ট বলা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউ-২৩৫ এর পরিমাণ বাড়ানো হয়, যাতে নিয়ন্ত্রিতভাবে শক্তি উৎপাদন সম্ভব হয়।

একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যবহারের পর জ্বালানির কার্যকারিতা কমে যায়। তখন রিঅ্যাক্টরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুরোনো জ্বালানি সরিয়ে নতুন জ্বালানি স্থাপন করা হয়। এই ব্যবহৃত জ্বালানিকে বলা হয় স্পেন্ট ফুয়েল। এটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় ও উচ্চ তাপমাত্রায় থাকে, তাই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়।

এদিকে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে নতুন অগ্রগতি যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশেও। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ মূলত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর সঙ্গে জড়িত নিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর