ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি অফিসে ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক করা খুবই খারাপ: তথ্য উপদেষ্টা জুলাই গণহত্যায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ সৌদির তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩

ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্তে খুশি ট্রাম্প, কমতে পারে তেলের দাম


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:০৩ এএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্তকে ‘চমৎকার’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে তেল উৎপাদন নীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে আমিরাতের এই পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, ওপেকের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে উৎপাদন নীতি নির্ধারণের সুযোগ পেলে দেশটি বৈশ্বিক বাজারে আরও নমনীয় ভূমিকা রাখতে পারবে, যা শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।

ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, “আমি মনে করি, শেষ পর্যন্ত এটি পেট্রল ও তেলের দাম কমানোর জন্য ভালো একটি উদ্যোগ হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ কম দামে জ্বালানি পাবে এবং বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে।” তার এই মন্তব্যে বোঝা যায়, তিনি এই সিদ্ধান্তকে শুধু কৌশলগত নয়, বরং অর্থনৈতিক দিক থেকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে মূলত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ সংকট এবং উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের কারণে। ওপেক দীর্ঘদিন ধরে তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে অনেক সময় এই নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ত্যাগ করলে তারা নিজেদের মতো করে উৎপাদন বাড়াতে বা কমাতে পারবে। এর ফলে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবেই দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। ট্রাম্পের মতে, এই কারণেই ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসতে পারে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ওপেকের বাইরে গেলেও বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা-সরবরাহ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বড় উৎপাদক দেশের সিদ্ধান্তের ওপরই মূলত তেলের দাম নির্ভর করবে। ফলে শুধু একটি দেশের সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই কারণে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে ট্রাম্প আশাবাদী যে, আমিরাতের এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

সব মিলিয়ে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের নীতি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই


এ সম্পর্কিত আরো খবর