ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ আসিফ নজরুলের নির্দেশেই বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে ইউএনডিপির সাহায্য চান এলজিআরডি মন্ত্রী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১ ওবায়দুল কাদেরের সম্পদের পরিমাণ কত? সারের ডিলার কমিশন বাড়লেও কৃষকের কেনা দাম একই থাকছে কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'যাচাই না করা' সংবাদে সাংবাদিকদের হতে পারে ১০ বছরের জেল সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

জব্দ ইরানি জাহাজের ৬ ক্রু মুক্ত, ২২ জন এখনও আটক


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:০৫ এএম

হরমুজ প্রণালিতে জব্দ করা একটি ইরানি কনটেইনারবাহী জাহাজের ছয়জন ক্রুকে মুক্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁরা ইতোমধ্যে নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তবে একই জাহাজের আরও ২২ জন ইরানি নাবিক এখনও আটকা রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম।

গত ২০ এপ্রিল মার্কিন বাহিনী ‘তউসকা’ নামের কনটেইনারবাহী জাহাজটি জব্দ করে। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন। এর মধ্যে ছয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকিদের মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক থাকা নাবিকদের দ্রুত মুক্ত করতে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এই ঘটনাটি নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এই প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন হয়, ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ করা জাহাজটিকে আগে থেকেই ওই এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জাহাজটি সেই নির্দেশ অমান্য করায় বাধ্য হয়ে সেটি জব্দ করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ইরানের বন্দর ও নৌপথ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করা হচ্ছে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তারা এটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলছে, নিরীহ নাবিকদের আটক রাখা অযৌক্তিক এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেওয়া উচিত। তেহরান মনে করছে, এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। হরমুজ প্রণালিতে বারবার এমন ঘটনা ঘটলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। অনেক দেশই চায়, এই ধরনের উত্তেজনা দ্রুত কমে আসুক এবং নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হোক। কারণ হরমুজ প্রণালি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি করিডর।

সব মিলিয়ে, ছয়জন ক্রুর মুক্তি কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও বাকি নাবিকদের ভাগ্য অনিশ্চিত থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না। তাদের মুক্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর