ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

তিন মাসে ৮৫৪ খুন, ঢাকায় বাড়ছে প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:০৮ এএম

দেশজুড়ে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই (জানুয়ারি–মার্চ) সারা দেশে ৮৫৪টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ঘটেছে ৬১টি খুন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার একাধিক ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে হত্যার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২৩ সালে হত্যার মামলা ছিল ৩ হাজার ২৩টি, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪৪২টি এবং গত বছর ৩ হাজার ৭৮৬টিতে পৌঁছায়। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

রাজধানীতে জানুয়ারি মাসে ২১টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৬টি এবং মার্চে ২৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এপ্রিলের প্রথম ২৮ দিনেই অন্তত ১৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে ভয় ও অনিরাপত্তা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর পুনরুত্থান এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। তারা আবারও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে এবং চাঁদাবাজি ও সহিংস কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়, যা নগরবাসীকে আতঙ্কিত করে তোলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে একাধিক গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। একই ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে, যেখানে ব্যস্ত সড়কে জনসমক্ষে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনা মূলত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল।

তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভয় সৃষ্টি করছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের মতে, প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা শুধু অপরাধ নয়, এটি সমাজে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বাড়ায়। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ চলছে। মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ ও এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় এসব গ্রুপের সক্রিয়তা বেশি। অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী দেশের বাইরে বসে এই নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করছে।

বর্তমানে ঢাকার অপরাধ জগৎ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মিরপুর, পল্লবী, ভাসানটেক ও কাফরুল এলাকায় বিভিন্ন গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে ফার্মগেট ও কাওরান বাজার এলাকায় টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়েও সংঘাত বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই মূলত এই সহিংসতা বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর