পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার রাজধানী ঢাকায় মোট ২৫টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩টি হাট থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দুই সিটি করপোরেশন ইতিমধ্যে হাট ইজারা প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ের দরপত্র ইতিমধ্যে খোলা হয়েছে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাটের জন্য কোনো দরপ্রস্তাব জমা পড়েনি। এর মধ্যে রয়েছে খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের বছিলা ৪০ ফুট রাস্তার পাশের জায়গা এবং ভাটারা সুতিভোলা খালসংলগ্ন এলাকা। এসব স্থানের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় যেসব স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসবে তার মধ্যে রয়েছে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশের নদীর পাড়, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকা, শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকা, শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন খালি জায়গা, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল পানির পাম্প পর্যন্ত রাস্তার অংশ, দয়াগঞ্জ থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়কের অব্যবহৃত অংশসহ বেশ কয়েকটি স্থান।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় গাবতলী স্থায়ী হাটের পাশাপাশি আরও ১২টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মিরপুর সেকশন ৬ এলাকা, কালশী বালুর মাঠ, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পাশের খালি জায়গা, পূর্ব হাজীপাড়া, উত্তরা দিয়াবাড়ী, রানাভোলা এলাকার খালি জায়গা, কাচকুড়া বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং ভাটারা সুতিভোলা খালসংলগ্ন এলাকা।
ঢাকা উত্তর সিটির সম্পত্তি বিভাগ জানিয়েছে, কয়েকটি হাটের দরপত্র প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় পুনরায় আহ্বান করা হচ্ছে। অন্যদিকে কিছু হাটের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র জমা পড়েছে। দিয়াবাড়ী এলাকার একটি হাটের জন্য সর্বোচ্চ দরপ্রস্তাব এসেছে এসএফ করপোরেশনের পক্ষ থেকে, যার পরিমাণ ১৪ কোটি টাকার বেশি।
সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার হাটগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাট ব্যবস্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব টিমও কাজ করবে।
ঈদকে কেন্দ্র করে পশু বেচাকেনার চাপ বাড়লেও এবার নির্ধারিত স্থানেই হাট পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট ও জনভোগান্তি কমবে বলে আশা করছে প্রশাসন।