জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার কিংবা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনেননি এবং পড়েনওনি। তিনি দাবি করেন, এই বক্তব্য এবং তা দেওয়ার সুযোগ উভয়কেই তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তার প্রয়োজন এবং তার আর বঙ্গভবনে থাকার কোনো অধিকার নেই।
বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু-এর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাকে তিনটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতু সংক্রান্ত অভিযোগে আওয়ামী লীগকে দায়মুক্তি দেওয়া এবং ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বাতিল করা।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে একটি বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়, যা সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করে। ওই প্রতিবেদনে ২০০১ সালের ঘটনার জন্য বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, এই প্রতিবেদন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এবং জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও বলেন, এই রাষ্ট্রপতি দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য এবং গণহত্যার সহযোগী—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করেছিল। তবে তখন বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতির পক্ষে অবস্থান নেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি নির্বাচিত সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন রাষ্ট্রপতির পরিবর্তন করা হচ্ছে না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় যে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান আরও কঠোর হচ্ছে। বিষয়টি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।