ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

দেড় মাসে ২৮০ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ০১ মে, ২০২৬ সময় : ৯:২০ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ দেখা গেছে এমন শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮৫ জনে। সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার (১ মে ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে চলমান এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় মাসে সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ শিশুর। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ২৩১ শিশুর, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করে।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ১৪৬ শিশু, যাদের সংক্রমণ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৮ হাজার ৩০১ শিশু। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, রোগটির সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম এবং হাম-সন্দেহে ১৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৪২ জন শিশু। জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়া এবং নগরায়ণের কারণে এ অঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকাদান এবং প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে অনেক ক্ষেত্রে টিকা না নেওয়া বা স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবের কারণে সংক্রমণ বাড়ছে।

এদিকে, চিকিৎসকরা অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, জ্বর, চোখ লাল হওয়া, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা জরুরি। দেরি হলে জটিলতা বেড়ে যেতে পারে এবং মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোগটির বিস্তার রোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এজন্য সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, অভিভাবক এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে হামের প্রকোপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সতর্কতা অবলম্বন ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের বিকল্প নেই।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর