রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে কাপড়বোঝাই কাভার্ড ভ্যান চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি যাওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ৯০ রোল বিদেশি ফেব্রিক্সসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো চুরির কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চীন থেকে আমদানিকৃত ৯০ রোল ফেব্রিক্স চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। পরদিন ১ মে ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কাভার্ড ভ্যানটি বিমানবন্দর থানাধীন ১ নম্বর সেক্টরের জিনজিয়ান রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছালে একটি অজ্ঞাত গাড়ি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার পর কাভার্ড ভ্যানের চালক মোঃ মাহমুদুল হাসান ওই গাড়িটির পিছু নেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি দেখেন, তার ফেব্রিক্সবোঝাই কাভার্ড ভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে গায়েব হয়ে গেছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। এরপর ৩ মে রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মোঃ মুন্না হাসান (৩২), মোঃ আবু হাসান (৩৪), মোঃ গোলাম মোস্তফা (২৯) এবং মোঃ রাজিব আলী দেওয়ান (৩৪)।
গ্রেপ্তারকৃত রাজিব আলী দেওয়ানের বাসা থেকে চুরি যাওয়া ৯০ রোল বিদেশি ফেব্রিক্স উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরির কাজে ব্যবহৃত দুটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করে পুলিশ।
অতিরিক্ত তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একই দিন ভোর ৬টার দিকে দক্ষিণখান এলাকা থেকে চক্রের আরও একজন সদস্য মোঃ ইব্রাহিম হক (৩০) কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ধারণা, এই চক্রটি সংগঠিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন ও মালামাল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
পুলিশ জানায়, চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করে চালককে বিভ্রান্ত করে কাভার্ড ভ্যানসহ মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। পরে নির্ধারিত স্থানে মালামাল সরিয়ে ফেলা হয় এবং যানবাহন গোপন করে রাখা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় রাজধানীর পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।