গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী মেট্রো থানা এলাকার বাইমাইল এলাকায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ধাওয়া ও পুলিশি চেষ্টার পরও অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
নিহত নারী মমতাজ খাতুন (২২) কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা উপজেলার কাজাই কাটা এলাকার মৃত ময়নাল হকের মেয়ে। তিনি গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মমতাজ খাতুন তার স্বামী আনোয়ার হোসেন (২৮), চার বছরের কন্যা সন্তান এবং শাশুড়িকে নিয়ে কোনাবাড়ীর বাইমাইল পূর্বপাড়া এলাকার মো. মোকছেদের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন কোনো স্থায়ী পেশায় যুক্ত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি ঘটে রবিবার মধ্যরাতের দিকে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ ও অনলাইন জুয়ার আসক্তিকে কেন্দ্র করে স্বামী আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রীকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে এক ব্যক্তি মাথায় বস্তা নিয়ে সন্দেহজনকভাবে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাকে থামিয়ে বস্তার ভেতরে কী আছে জানতে চান। এ সময় ওই ব্যক্তি বস্তা ফেলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার দিয়ে তাকে ধাওয়া করেন।
এ সময় কাছাকাছি চেকপোস্টে দায়িত্বরত এএসআই মো. আলমগীর হোসেন ও এএসআই আব্বাস ঘটনাস্থলে এসে পলাতক ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা করেন, তবে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পরে স্থানীয়রা বস্তাটি খুলে ভিতরে এক নারীর মরদেহ দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে কোনাবাড়ী থানা-কে খবর দেওয়া হলে এসআই মো. হামিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। আর্থিক সংকট ও পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সেই বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।
কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইফতেখার হোসেন জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এমন নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।