দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে খুলনার পাইকগাছাবাসীর। উপজেলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন গণমাধ্যমে “পাইকগাছায় নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ৪ মে সোমবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য নির্ধারিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
সংসদ সদস্য এদিন উপজেলা সদরের টিটিসি সংলগ্ন পাইকগাছা-কয়রা সড়কের পশ্চিম পাশে শিববাটী মৌজায় সম্ভাব্য এক একর জমি পরিদর্শন করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে থমকে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ হাসান ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠালেও নানা প্রশাসনিক জটিলতায় অগ্রগতি হয়নি। তবে নতুন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সক্রিয় হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
পরিদর্শনকালে এমপি আবুল কালাম আজাদ জানান, পাইকগাছায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দেশে যে ২৯টি উপজেলায় এখনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্টেশন স্থাপনের কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই দাবিটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই জেলা প্রশাসকের কাছে পুনরায় লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলা জেলা শহর থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
বিগত কয়েক বছরে একাধিক অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং শিববাটী গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্পদ ধ্বংস হয়। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাতিখালী ও গজালিয়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে বহু বসতঘর পুড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, পাশের কয়রা, তালা ও আশাশুনি উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিস আসতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে অনেক সময়ই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, ফলে ক্ষয়ক্ষতি অপূরণীয় হয়ে দাঁড়ায়।
ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশাপাশি এদিন স্মরণখালী মৌজায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত বিদ্যুতের গ্রিড উপকেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণকৃত দুই একর জমিও পরিদর্শন করেন এমপি। তিনি জানান, গ্রিড উপকেন্দ্রটি চালু হলে পাইকগাছা ও কয়রা এলাকায় দীর্ঘদিনের লো-ভোল্টেজ ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা দূর হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অঞ্জন কুমার সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
উপজেলার সচেতন মহলের মতে, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে পাইকগাছায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবি এবার বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।