ক্রীড়া ডেস্ক
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় আহত এক ক্রীড়াবিদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি জানান, আহত ক্রীড়াবিদ সোহাদার চিকিৎসা ব্যয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। একই সঙ্গে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের অনেক ক্রীড়াবিদই ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ার হারান। আবার তৃণমূল পর্যায়ের খেলাধুলা ও বিভিন্ন ট্রায়ালে অংশ নিতে গিয়ে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় গুরুতর আহত হন। এসব বাস্তবতা আমিনুল হকের কাছে নতুন নয়, কারণ তিনি নিজেও জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছেন এবং খেলোয়াড়দের ইনজুরির কষ্ট ভালোভাবেই উপলব্ধি করেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভাইয়াশুতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহাদা গতকাল সোমবার শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক হাসপাতালে গিয়ে আহত ক্রীড়াবিদ সোহাদাকে দেখতে যান। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ আপডেট নেন। চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন তিনি।
হাসপাতাল শয্যাপাশে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী সোহাদাকে সাহস দেন এবং বলেন, “তুমি মাঠের লড়াকু সৈনিক, এই লড়াইয়েও তোমাকে জয়ী হতে হবে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আমরা সবাই তোমার পাশে আছি।”
এ সময় তিনি সোহাদার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের দুশ্চিন্তা লাঘবের চেষ্টা করেন। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, উন্নত চিকিৎসায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সরকার ও মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিত করা হবে।
তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, সোহাদার চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।
আমিনুল হক আরও বলেন, তরুণ ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। মাঠে খেলতে গিয়ে কেউ যেন অবহেলা বা অনিরাপত্তার শিকার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হবে।
এই ঘটনার পর ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন করে ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।