সোমবার (১১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত একদিনে ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১১৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৪১ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত দেশে মোট ৫০ হাজার ৫০০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯৩৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে টিকাদানের আওতার বাইরে থাকা প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন। জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও দুর্বলতা—এসব হামের সাধারণ উপসর্গ হিসেবে দেখা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৯৮০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১ হাজার ৯৯২ জন। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আলাদা রাখার মাধ্যমে হামের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তারা অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহ জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত ব্যক্তি যেন জনসমাগম এড়িয়ে চলেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া টিকাদান কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তারা নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রবণতা থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর