ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ সময় : ১০:৩০ এএম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো মেরামতের সম্ভাব্য ব্যয় বাদ দিয়েই এই হিসাব ধরা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জে হার্স্ট কংগ্রেসে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও পেন্টাগনের দেওয়া হিসাবের তুলনায় বর্তমান ব্যয় অন্তত ৪০০ কোটি ডলার বেশি। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে জে হার্স্ট বলেন, প্রথমদিকে ইরান যুদ্ধের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে সরঞ্জাম মেরামত, নতুন অস্ত্র প্রতিস্থাপন এবং সেনা মোতায়েনের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় হিসাব সংশোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জয়েন্ট স্টাফ টিম ও কম্পট্রোলার টিম নিয়মিত ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করছে। বর্তমানে ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।”

তিনি আরও জানান, এই হিসাবের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।

পরে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির শুনানিতেও একই তথ্য তুলে ধরেন জে হার্স্ট। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সেগুলোর প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

একটি সূত্র CNN-কে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো মেরামত এবং ধ্বংস হওয়া সামরিক সম্পদ প্রতিস্থাপনের ব্যয় যোগ করলে মোট খরচ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত অর্থনৈতিক চাপ মার্কিন অর্থনীতির ওপর আরও বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় যেসব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে, কেবল সেগুলোই প্রকাশ করা হবে।

যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ব্যয়েই সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইআইএ পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছরে খুচরা গ্যাসের দাম গ্যালনপ্রতি গড়ে ৩ দশমিক ৮৮ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। আগামী বছরও দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বড় গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটি ২০২৭ সালের আগে পুরোপুরি সচল করা সম্ভব নাও হতে পারে।

যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের খার্গ দ্বীপের উপকূলে ব্যাপক তেল ছড়িয়ে পড়ছে। এই তেল ধীরে ধীরে সাগরের পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

গত ৪০ দিনের যুদ্ধে বিভিন্ন তেলক্ষেত্র ও শোধনাগার হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক জোট গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। Bloomberg-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে তুরস্ক ও কাতারও যোগ দিতে পারে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “তুরস্ক ও কাতার এই উদ্যোগে যুক্ত হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।”

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। ওই চুক্তিতে বলা হয়, যেকোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে The Times of Israel-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক গোপন হামলা চালিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি রিয়াদ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ইরান পাল্টা হামলায় ইসরায়েল ও বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই অস্থিতিশীল করছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর