ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

পঁচা দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত রূপগঞ্জের পরিবেশ

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও শীতলক্ষ্যার ঘাটে আবর্জনার স্তুপ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬ সময় : ৮:৩২ পিএম

শফিকুল আলম ভূইয়া, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা এবং শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাটজুড়ে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো বিশ্বরোড, রূপসী, বরপা, ভুলতা, গোলাকান্দাইলসহ আঞ্চলিক সড়কের পাশে যত্রতত্র আবর্জনার স্তুপ জমে রয়েছে। একইভাবে মুড়াপাড়া, কাঞ্চন ও তারাবো এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন খেয়াঘাটেও পাহাড়সম ময়লার স্তূপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে পঁচা দুর্গন্ধে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের পাশে ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা, হাট-বাজার এবং পৌর এলাকার বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় এসব আবর্জনা সরাসরি নদীর তীর ও ঘাট এলাকায় ফেলা হচ্ছে। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মুড়াপাড়া বাজার, তারাবো বাজার, হাটাবো বাজার, বেলদী বাজার, শিমুলিয়া বাজার, তারাবো পৌরসভা ও কাঞ্চন পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিন ভ্যানযোগে এনে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী খেয়াঘাটে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে মুড়াপাড়া বাজার খেয়াঘাট ও কাঞ্চন বাজারের পৌর পার্কসংলগ্ন নদীর ঘাটে বিশাল ময়লার স্তুপ জমেছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় আবর্জনা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ময়লার দুর্গন্ধে পথচারী, নৌযাত্রী ও আশপাশের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নাকে-মুখে রুমাল চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।

বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আবর্জনার সঙ্গে কাদাপানি মিশে চলাচলে দুর্ভোগ বাড়িয়ে তোলে। ময়লার স্তূপে কুকুরের বিচরণ এবং মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ও মহাসড়কের আশপাশে ছড়িয়ে রয়েছে পঁচা খাবার, কলার কাঁদি, নারকেল ও সুপারির বাকল, প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের খালি প্যাকেট, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও গৃহস্থালির বর্জ্য। এতে পুরো এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

কাঞ্চন বাজারের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, “ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় বাসাবাড়ি ও বাজারের বর্জ্য নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা থাকলে এই দূষণ হতো না।”

কেন্দুয়া এলাকার শিক্ষক এনামুল হক সিকদার বলেন, “শীতলক্ষ্যা নদী রক্ষা করতে হলে দ্রুত আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার বা ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করতে হবে।”

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভি ফেরদৌস বলেন, “ময়লা-আবর্জনা থেকে ভাইরাসজনিত নানা রোগের সৃষ্টি হয়। এর গ্যাসে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, চোখে জ্বালা ও শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।”

কাঞ্চন পৌর প্রশাসক ও রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মারজানুর রহমান বলেন, “কাঞ্চন পৌরসভায় ময়লা ডাম্পিং করার নির্দিষ্ট স্টেশন নেই। দ্রুত ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তারাবো পৌর প্রশাসক ও রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “তারাবো পৌরসভায় ডাম্পিং ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। নদীর ঘাটে ময়লার স্তুপ ফেলা উচিত নয়। সবাইকে সচেতন হতে হবে।”


এ সম্পর্কিত আরো খবর