ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে লাঙ্গলবন্দ সেতুর জরুরি সংস্কারকাজ চলার কারণে ঢাকামুখী লেনে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে এই রুটে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহন চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আজ সোমবার সকাল থেকে এই যানজট পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং দুপুরের পর পর্যন্ত মহাসড়ক স্থবির হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে লাঙ্গলবন্দ সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ঢালাই কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সংস্কারকাজের সুবিধার্থে ঢাকামুখী লেনের একটি অংশ পুরোপুরি বন্ধ রেখে কেবল এক লেন দিয়ে কোনোমতে যান চলাচল করানো হচ্ছে। দুই লেনের গাড়ি এক লেনে প্রবেশ করায় মহাসড়কে তীব্র গাড়ির চাপ তৈরি হয়। এতে ধীরে ধীরে যানজটের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তা সোনারগাঁ ছাড়িয়ে মেঘনা ব্রিজ এলাকা হয়ে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। সবশেষ দুপুর ২টা পর্যন্ত মহাসড়কের এই অংশে তীব্র যানজট লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, তীব্র যানজটের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইভেটকার দীর্ঘ সময় ধরে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। তীব্র গরম আর যানজটের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক যাত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হতে দেখা গেছে। গণপরিবহনে আটকে থাকা সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে বিশেষ করে নারী, শিশু ও অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
ঢাকাগামী এক ট্রাকচালক ওবায়দুল মিয়া তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে দাউদকান্দি ব্রিজ পার হওয়ার পর থেকেই মহাসড়কে এই তীব্র যানজটে আটকে আছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও গাড়ি সামান্যতম এগোচ্ছে না। পণ্য নিয়ে সময়মতো ঢাকায় পৌঁছানো এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’ তিশা পরিবহনের একজন যাত্রী বৃষ্টি পোদ্দার বলেন, ‘যে পথটুকু ১০ মিনিটে পার হওয়ার কথা, সেখানে আড়াই ঘণ্টা ধরে বাসের ভেতরেই বসে আছি। ঢাকায় অফিসে একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল, কিন্তু যানজটের কারণে সময়মতো পৌঁছাতে পারলাম না। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল কাজ শুরুর আগে থেকে কোনো বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা, তাহলে সাধারণ মানুষের এত দুর্ভোগ হতো না।’
একই দুর্ভোগের কথা জানান প্রাইভেটকার চালক মোহাম্মদ রাব্বানি। তিনি বলেন, ‘মেঘনা টোলপ্লাজা থেকে শুরু করে ঢাকামুখী লেনটি পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে। আড়াই ঘণ্টা একই জায়গায় বসে থাকার পর কোনোমতে মেঘনা ব্রিজ পার হতে পেরেছি। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই পথটুকু পার হতে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগে।’
এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ জানান, লাঙ্গলবন্দ সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বর্তমানে ঢালাই কাজ চলমান রয়েছে। সংস্কারকাজের কারণে সকাল থেকেই ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এক লেন দিয়ে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের টিম কাজ করছে। সড়ক বিভাগ দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং আজকের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।