ভূমিসেবাকে দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য আরও অনেক বেশি সহজ, গতিশীল ও সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেবা চালুর এক ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ আধুনিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে এখন থেকে জনগণকে এই বিশেষ সেবা প্রদান করা হবে, যাতে করে সাধারণ মানুষকে আর কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্নীতি বা অযথা নানামুখী হয়রানির শিকার হতে না হয়। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওস্থ ভূমি ভবনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থেকে তিন দিনব্যাপী বিশেষ ভূমিসেবা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন। একই অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিটি উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে একযোগে এই বৃহৎ ভূমিসেবা মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমির সঠিক ও পরিকল্পিত ব্যবহার বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য এবং সময়ের দাবি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের এই প্রাচীন ও ঐতিহ্যগত ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও বেশি আধুনিকায়ন ও সহজীকরণ করে সাধারণ জনগণকে দ্রুততম সময়ে উন্নত ভূমিসেবা দিতে ইতিমধ্যেই অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আমাদের সরকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই নতুন উদ্যোগের ফলে দেশের ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে আসবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশব্যাপী একযোগে শুরু হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২১ মে তারিখে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সকল স্তরের মানুষকে আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এবারের বিশেষ মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’। সরকারের এই চমৎকার প্রতিপাদ্যটি বর্তমান যুগের সাথে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই মেলা আয়োজনের মূল ও প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রচলিত ভূমি সেবা নাগরিক পর্যায়ে আরও সহজীকরণ করা, সরকারের আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নতুন নাগরিক সেবা সম্পর্কে সাধারণ সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করে তোলা এবং একদম প্রান্তিক পর্যায়ে এই চমৎকার সেবাগুলো সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর উদ্বোধনী বক্তৃতায় দেশের ভূমি কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান, যাতে করে ডিজিটাল প্রযুক্তির এই সুফল প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছায়। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যখন পুরো সেবা খাত বদলে যাচ্ছে, তখন ভূমি সেবাকেও এর বাইরে রাখার কোনো সুযোগ নেই। কাগজের নথির ঝামেলা কমিয়ে অনলাইনে খতিয়ান, নামজারি এবং ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, দেশের মানুষ যেন এই মেলা থেকে সে বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান লাভ করতে পারে, সেটাই এই মেলার মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে দেশের সাধারণ মানুষের ভূমির মালিকানা সুরক্ষা এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে এই জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।