বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর ধারাবাহিক ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য এসেছে। যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি কার্গোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রমে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বিলম্বের ঝুঁকি কমবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০১৭ সালে ৩য় দেশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এভিয়েশন সিকিউরিটি ভ্যালিডেটেড রেগুলেটেড এজেন্ট (RA3) স্বীকৃতি অর্জন করা হয়। এর আওতায় EDS, X-ray, ETD এবং EDD—এই চারটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হতো। তবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের ‘ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট’ (DfT) সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী কার্গোর ক্ষেত্রে EDD পদ্ধতি স্থগিত করে। সম্প্রতি বেবিচকের কূটনৈতিক ও কারিগরি সফল সমন্বয়ে এই অনুমোদন পুনর্বহাল করা হয়েছে। এর ফলে বিমানবন্দরে এখন সবকটি স্ক্রিনিং পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত হলো, যা নতুন এয়ারলাইনসগুলোর সরাসরি কার্গো পরিবহণে সক্ষমতা বাড়াবে।
অন্যদিকে, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২১ সালে RA3 স্বীকৃতি অর্জনের পর থেকে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে এখানে নিয়মিত কার্গো অপারেশন শুরু হয়। ইতিমধ্যে EDS, X-ray এবং ETD পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালিত হলেও দ্বিতীয় EDS চালু হওয়ায় বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেল। এতে সিলেট থেকে বৃহৎ পরিসরে সরাসরি রপ্তানি কার্গো পরিচালনার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।