পাকিস্তানে বোমা হামলায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় ভয়াবহ বোমা হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই নৃশংস ও অমানবিক ঘটনা শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, পুরো মানবজাতির জন্যই একটি বড় দুঃখজনক ঘটনা।
রোববার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা সভ্য সমাজের জন্য হুমকি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিরীহ মানুষের জীবনহানি ঘটানো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি পাকিস্তানের জনগণের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় জাফর এক্সপ্রেসের একটি শাটল ট্রেনকে লক্ষ্য করে এ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে কোয়েটা সেনানিবাস থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। বিস্ফোরণের ফলে ট্রেনের আশপাশে থাকা সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই চারদিকে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৮২ জন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাটির কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।
এ ঘটনায় পুরো পাকিস্তানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাধারণ মানুষ এই হামলাকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখছেন এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকেও এ ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।