ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি অফিসে ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক করা খুবই খারাপ: তথ্য উপদেষ্টা জুলাই গণহত্যায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ সৌদির তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩

উত্তরপ্রদেশে প্রকাশ্যে কোরবানির পশু জবাই নিষিদ্ধ


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৫ মে, ২০২৬ সময় : ৩:২৮ পিএম

ভারতের উত্তরপ্রদেশে পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে কোরবানির পশু জবাইয়ের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম ও আইন মেনে নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে প্রকাশ্যে পশু কোরবানি করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মীয় উৎসব পালনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণে কোরবানির পশু জবাই শুধুমাত্র অনুমোদিত স্থানে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন, কেউ যাতে প্রকাশ্যে রাস্তা, খোলা মাঠ বা জনসমাগমস্থলে পশু জবাই না করতে পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের সময় বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত ভিড় এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে আগেই নির্দিষ্ট জবাইখানা ও নিয়ন্ত্রিত স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেসব স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু কোরবানি করার অনুমতি থাকবে। এর বাইরে কোথাও কোরবানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে প্রশাসন বলছে এটি জনশৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, অন্যদিকে কিছু মানুষ মনে করছেন এটি ধর্মীয় আচার পালনের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ।

তবে রাজ্য প্রশাসনের দাবি, আইন সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। তাই উৎসব পালনের সময় যেন অন্যদের অসুবিধা না হয় এবং পরিবেশ দূষণ না ঘটে, সে দিকেই মূল লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঈদের দিনগুলোতে বিশেষ টিম গঠন করা হবে, যারা মাঠপর্যায়ে নজরদারি চালাবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে যাতে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা যায়।

এদিকে ধর্মীয় নেতাদের একাংশ সাধারণ মানুষকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, উৎসবের আনন্দ যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয়, সেটাই সবার দায়িত্ব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় জনবহুল রাজ্যে ধর্মীয় উৎসব ব্যবস্থাপনা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তাই প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর