সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদী থেকে ১২ কেজি ওজনের একটি বিশাল ভেটকি মাছ ধরা পড়েছে। বিরল আকারের এই মাছটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। মাছটি দেখতে আড়তে ভিড় করেন শত শত মানুষ।
রোববার (৩১ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার কাপসন্ডা গ্রামের জেলে রবিউল ইসলাম গাজী ফাঁস জালের মাধ্যমে মাছটি ধরেন। বিশাল আকৃতির ভেটকি মাছটি ধরা পড়ার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
জেলে রবিউল ইসলাম গাজী জানান, চলতি বছরে খোলপেটুয়া নদী থেকে তিনি বেশ কয়েকটি বড় মাছ পেয়েছেন। তবে এবারই তার জালে সবচেয়ে বড় ও ভারী মাছ ধরা পড়েছে। ১২ কেজি ওজনের এই ভেটকি মাছটি পেয়ে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আনন্দিত। একই সময়ে তিনি আরও একটি প্রায় ২ কেজি ওজনের মাছও পান।
কাপসন্ডা মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম সরদার জানান, তাদের আড়তে এর আগে এত বড় ভেটকি মাছ আসেনি। খোলপেটুয়া নদী থেকে ধরা পড়া ১২ কেজি ওজনের এই মাছটি আড়তে আসার পর উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
তিনি আরও জানান, মাছটি প্রতি কেজি ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। পরে ঢাকার একজন চাকরিজীবী পুরো মাছটি কিনে নেন। বড় আকারের মাছটির বাজারমূল্যও ছিল বেশ আকর্ষণীয়।
স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে নদীতে এত বড় আকারের ভেটকি মাছ খুব কমই দেখা যায়। তাই মাছটি দেখতে এবং ছবি তুলতে অনেক মানুষ আড়তে ভিড় করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাছটির ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের মতে, খোলপেটুয়া নদীতে এখনও বড় আকারের মূল্যবান মাছ পাওয়া যায়, যা নদীর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যের ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। নদীর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতেও এমন বিরল ও বড় আকারের মাছ পাওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা মনে করেন, নদীতে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে যেমন নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে, তেমনি জেলেদের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নয়ন হবে।
বিশাল আকৃতির এই ভেটকি মাছটি এখন আশাশুনি ও আশপাশের এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।