আগামী সপ্তাহে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। আগামী ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্ত অপরাধ দমন এবং দুই বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
বিএসএফ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পিটিআই জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুহম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীন কুমার।
সীমান্তবর্তী বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এমন এক সময়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘কথিত’ অবৈধ ও নথিবিহীন বাংলাদেশিদের নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ, অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যে অবস্থানরত ‘কথিত’ নথিবিহীন বাংলাদেশিদের বিজিবির কাছে হস্তান্তরের বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যুও আলোচ্যসূচিতে স্থান পেতে পারে।
এদিকে ভারত সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার স্থাপনের জন্য বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তাদের রাখার জন্য বিভিন্ন জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও কাঁটাতারবিহীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই অংশের প্রায় ১৭৪ কিলোমিটার এলাকায় ভৌগোলিক ও অন্যান্য জটিলতার কারণে কাঁটাতার নির্মাণ সম্ভব নয়। ফলে এসব এলাকায় বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিএসএফ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত অপরাধ দমন, চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এ বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এ বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বৈঠকে বিভিন্ন বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: পিটিআই