চলতি জুন থেকে আগস্টের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বাড়ানোর জলবায়ুগত পরিস্থিতি ‘এল নিনো’ তৈরি হওয়ার ৮০ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক সংস্থাটি জানায়, উষ্ণমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধারা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।
ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় খরা, তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
আঞ্চলিক জলবায়ু কেন্দ্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় গড়ের তুলনায় কম মৌসুমি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কৃষি, পানিসম্পদ ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যা মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী বায়ুচাপ, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো ফিরে আসে এবং এর প্রভাব প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এল নিনোর বিপরীত আবহাওয়া পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘লা নিনা’। এই দুই অবস্থার মধ্যবর্তী সময়কে সাধারণত নিরপেক্ষ বা স্বাভাবিক আবহাওয়া পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব প্রাকৃতিক চক্রের প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার ত্রৈমাসিক তথ্য অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের মধ্যে এল নিনো পূর্ণাঙ্গ রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি। অধিকাংশ পূর্বাভাসে ধারণা করা হচ্ছে, এবারের এল নিনো মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার হতে পারে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব চেলেন্তে সাউলো বলেছেন, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। কারণ এর ফলে একদিকে খরার প্রবণতা বাড়বে, অন্যদিকে কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি স্থলভাগ ও মহাসাগর উভয় ক্ষেত্রেই তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি তৈরি হবে।
এর আগে এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ সাল ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড হয়েছিল। পরবর্তী বছর ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, এল নিনো এখন বিশ্বের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। তাই এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তার মতে, উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীতে এল নিনো পরিস্থিতি জলবায়ু সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।