ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

. মায়ের প্রতি অবহেলা: যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৩ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:০৪ পিএম

রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু ও তাঁর সন্তানদের অবহেলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নূর জাহান বেগম নামের এই নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর জানা যায়, তাঁর সন্তানরা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও মায়ের প্রতি চরম অবহেলা করেছেন। এই ঘটনার পর ওই নারীর সন্তান, যিনি একজন যুগ্ম সচিব, তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বুধবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, 'পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন আছে, সেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই যুগ্ম সচিবের বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আমরা ঘটনার সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছি।'

নূর জাহান বেগম তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে বাসায় থাকতেন, সেই বাসার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফুটেজে দেখা যায়, তাঁর ঘর ও ফ্ল্যাট অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছিল। এমনকি মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ তাঁর চোখে ফাঙ্গাস ও মরদেহে পোকার অস্তিত্ব পেয়েছে, যা চরম অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ। পল্লবী থানা সূত্রে জানা যায়, ভবনটিতে বসবাসকারী প্রতিবেশীরাও এই মৃত্যুকে 'অমানবিক' বলে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ঘটনাটির পর থেকে ২০১৩ সালের ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ এবং ২০২৩ সালে করা এই আইনের বিধিমালা আবারও আলোচনায় এসেছে। আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তাঁদের পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। যদি একাধিক সন্তান থাকে, তবে তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে এই দায়িত্ব ভাগ করে নেবেন। এছাড়া পিতা-মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা প্রতিটি সন্তানের আইনি বাধ্যবাধকতা। আইনে আরও উল্লেখ আছে, কোনো সন্তান যদি এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বা অবহেলা করেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষিত ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের দ্বারা একজন মায়ের এমন করুণ মৃত্যু সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে কোনো সন্তান নিজ পিতা-মাতার প্রতি এমন অমানবিক আচরণ করার সাহস না পায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এ ধরনের দ্রুত পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর