দেশের চার অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে তীব্র দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকার নৌযান চলাচল ও জানমালের সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, দেশের বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। প্রবল এই বাতাসের সঙ্গে এসব অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে। উদ্ভূত আবহাওয়ার কারণে এই চার অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা ৫ দিনের জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর যে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে যে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অবস্থায় বিরাজ করছে। এই মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষা বাংলাদেশের টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে। এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলসহ আরও কয়েকটি এলাকায় আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির এই সম্ভাবনা থাকলেও, বেশ কিছু এলাকায় এখনো মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার কারণে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, যা জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয় ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা উচিত। বিশেষ করে খোলা মাঠে থাকা কৃষক, নদী-সাগরে থাকা জেলে এবং নৌযাত্রীদের এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।