বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং এ দেশের মানুষের স্বকীয়তার প্রতীক। তিনি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে তিনি এই ভূখণ্ডের মানুষকে একটি অনন্য জাতীয় পরিচিতি বা আইডেন্টিটি তৈরি করে দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। পিআইবি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান।
মির্জা ফখরুল ১৯৭১ সালের সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যখন গোটা দেশের মানুষ যুদ্ধের ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল, তখন এক সাধারণ মেজর হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন।’ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি বর্বরতাকে কখনোই ক্ষমা করা যায় না। একজন সংগঠক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো আমি কাছ থেকে দেখেছি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার কাছে একজন অনন্য ও ক্ষণজন্মা পুরুষ।’
বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দলটি উদার ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ছিল সবাইকে নিয়ে পথ চলার, কোনো বিভাজন সৃষ্টির নয়। তিনি সমস্ত রাজনৈতিক চিন্তার মানুষকে নিয়ে বিএনপি গঠন করেছিলেন। তাঁর রাজনীতির মূল বিষয় ছিল ‘রিকন্সিলিয়েশন’ বা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া।’
জিয়াউর রহমানের কূটনীতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশকে কারো শত্রু বানাতে চাননি। বরং সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন এবং তাতে তিনি সফলও হয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে দেশকে আধিপত্যবাদের বাইরে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।’
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, ডেইলি ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএস-এর সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিমসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।