রাজধানীর উত্তরখান ও মিরপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট পৃথক দুই অগ্নিকাণ্ডে ছয়জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরখানের একই পরিবারের তিন সদস্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার (৬ জুন) সকালে উত্তরখান এলাকায় একটি বাসার রান্নাঘরে সিলিন্ডারের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। তারা হলেন—আলী হোসেন, তার স্ত্রী হাসনাহেনা এবং তাদের মেয়ে আঁখি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রান্নাঘরে গ্যাস জমে থাকার কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবারের তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আলী হোসেনের শরীরের ১০০ শতাংশ, হাসনাহেনার শরীরের ৬০ শতাংশ এবং আঁখির শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবাইকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
দগ্ধ আলী হোসেন ও হাসনাহেনার ছেলে রাতুল হাসান তুষার জানান, চিকিৎসকরা তাদের বাবা-মায়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা তাদের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
অন্যদিকে, একই দিন ভোররাতে রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে আরও তিন যুবক দগ্ধ হন। তারা হলেন—মিরাজ (২৬), সুজন (২৪) ও বিপ্লব (২৪)।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে তারা একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সিগারেট ধরানোর জন্য আগুন জ্বালালে গ্যাসের সংস্পর্শে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজনই দগ্ধ হন।
ডা. শাওন বিন রহমান জানান, মিরাজের শরীরের ১৫ শতাংশ, সুজনের শরীরের ২৪ শতাংশ এবং বিপ্লবের শরীরের ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদেরও হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীতে গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা, সিলিন্ডার ও গ্যাস সংযোগ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বৈদ্যুতিক সুইচ, আগুন বা অন্য কোনো দাহ্য উৎস ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে পৃথক দুই ঘটনায় আহত ছয়জনের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুরুতর দগ্ধদের অবস্থার উন্নতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।