ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

আত্মার আত্মীয়ের সাফল্যে গর্বিত: একটি রত্নগর্ভা পরিবারের অনন্য দৃষ্টান্ত


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৬ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:০৩ পিএম

আব্দুল কাইয়ুম খান (স্বপন),  বিশেষ প্রতিনিধি

গত শুক্রবার (৫জুন) রাতে এক নিকট আত্মীয়ের বাসায় নৈশভোজের আমন্ত্রণ ছিল। পারিবারিক সেই মেলবন্ধনের আবহেই মেজর জেনারেল মোঃ সাদিকুজ্জামান কাকুর পাঠানো একটি বিশেষ ও তথ্যবহুল লেখা হাতে পেলাম। গভীর পরম মমতায় লেখা সেই চিঠির প্রতিটি লাইন পড়ার পর মন এক অদ্ভুত ভালো লাগা এবং পরম তৃপ্তিতে ভরে গেল। সেই লেখার সূত্র ধরেই জানতে পারলাম আমাদের সবার অত্যন্ত প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় মনির কাকু উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক বা ডিআইজি পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি বা অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক পদে ভূষিত হয়েছেন।

নব পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বা অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান কাকুকে আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক আন্তরিক শুভেচ্ছা, মোবারকবাদ এবং অভিনন্দন জানাই। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর এই অনন্য ও গৌরবময় সাফল্যের খবরটি জানার পর থেকে আমার বুক গভীর এক আত্মতৃপ্তিতে ও গর্বে ভরে উঠেছে।

তাঁরা হয়তো আমার সরাসরি রক্তের কোনো বন্ধনে আবদ্ধ নন, কিন্তু রক্তের সম্পর্কের চেয়েও বহুগুণ শক্তিশালী এক অদৃশ্য সুতোয় আমরা বাঁধা, তাঁরা আমার প্রকৃত অর্থেই আত্মার আত্মীয়। তাঁদের পরম শ্রদ্ধেয় বাবা ও মা আমাকে সবসময় নিজের জন্মদাত্রী মায়ের মতো এবং আপন সন্তানের মতো গভীর স্নেহে আগলে রাখতেন ও ভালোবাসতেন। শৈশব ও কৈশোরের সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মায়া ও মমতার স্মৃতি আমি আজও আমার জীবনের কোনো এক কোণে সযতনে লালন করি এবং তা কোনোদিন ভুলিনি। এই ঐতিহ্যবাহী ও সুশিক্ষিত পরিবারটি মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার আলমনগর গ্রামের এক অত্যন্ত আলোকিত ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবার হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। কালের পরিক্রমায় আজ এই বংশের সন্তানেরা তাঁদের কর্মের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে শিক্ষা, সততা, মেধা এবং নিখাদ দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।

উক্ত গৌরবময় পরিবারের প্রধান কর্ণধার ও অভিভাবক ছিলেন মরহুম জনাব মোঃ নুরুজ্জামান। তিনি ছিলেন একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর সাহসী মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক কৃষি কর্মকর্তা। ১৯৭১ সালের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে দেশমাতৃকার পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার টানে নিজের জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে কৃষির আমূল উন্নয়ন ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় আমৃত্যু অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেছেন। তাঁর সততা ও ত্যাগের সেই মহান আদর্শই ছিল সন্তানদের জীবনের পথ চলার প্রধান পাথেয়। আর সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার সহধর্মিণী এবং ছয় সন্তানের গর্বিত জননী জনাব ফরিদা জামান হলেন এক অনন্য মহীয়সী নারী।

পাঁচ যোগ্য পুত্র ও এক রত্নতুল্য কন্যাকে তিনি শুধু জন্মই দেননি, বরং স্বামীর অনুপস্থিতিতে অক্লান্ত পরিশ্রম, অসীম ধৈর্য এবং কঠোর পারিবারিক অনুশাসনে তাঁদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে তাঁদের সব সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে আজ সমাজের ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন। মা ফরিদা জামানের এই অসামান্য ত্যাগ, মাতৃত্বের সাধনা ও অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ পর্যন্ত তিনবার মর্যাদাপূর্ণ ‘রত্নগর্ভা’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

তাঁদের এইান্বিত পরিবারের প্রতিটি সদস্য উচ্চশিক্ষিত, রুচিশীল ও অত্যন্ত মর্যাদাশীল ব্যক্তিত্ব। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে তাঁরা উচ্চপদস্থ শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দেশের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়নে তাঁরা নিজেদের মেধা, মনন ও দক্ষতাকে যেন সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছেন। তাঁদের এই দেশসেবার জন্য সমগ্র জাতি আজ তাঁদের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। পিতার সেই মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই তাঁরা প্রত্যেকে শৈশব থেকে বেড়ে উঠেছেন। জীবনের কোনো স্তরেই তাঁরা অন্যায় কিংবা দুর্নীতির সাথে বিন্দুমাত্র আপস করেননি এবং অনৈতিকতাকে কখনো প্রশ্রয় দেননি।

কর্মক্ষেত্রে সততা, নীতি ও নিষ্ঠার যে উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তাঁরা স্থাপন করেছেন, তা বর্তমান ও আগামী নতুন প্রজন্মের জন্য এক মহান শিক্ষণীয় অধ্যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই কৃতি পরিবারটি শুধু নিজ জেলাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশে একটি ঐতিহ্যবাহী, অতি শিক্ষিত এবং সম্ভ্রান্ত পরিবার হিসেবে বিশেষভাবে সুপরিচিত। দেশের বহু উচ্চপদস্থ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সাথে তাঁদের রয়েছে সুদৃঢ় আত্মীয়তার গভীর সম্পর্ক। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলী খান ছিলেন এই পরিবারেরই অত্যন্ত নিকট আত্মীয়।

এই মহান ও রত্নগর্ভা পরিবারের ছয় সন্তানই আজ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে স্বমহিমায় এবং নিজস্ব যোগ্যতায় উদ্ভাসিত। তাঁদের নাম ও পদবি নিচে হুবহু উল্লেখ করা হলো:

১.  নাম: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রফিকুজ্জামান  

     পদবি: ফার্মেসি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

২.  নাম: লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ কামরুজ্জামান  

     পদবি: পরিচালক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

৩.  নাম: জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান  

     পদবি: অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল, বাংলাদেশ পুলিশ

৪.  নাম: জনাব মোঃ শামসুজ্জামান  

     পদবি: এমএ, এলএলবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসরত

৫.  নাম: মেজর জেনারেল মোঃ সাদিকুজ্জামান  

     পদবি: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

৬.  নাম: জনাব ফেরদৌসী বেগম পপি [কন্যা]  

     পদবি: এমএ, এলএলবি, অধ্যক্ষ, রত্নগর্ভা ফরিদা জামান স্কুল এন্ড কলেজ

পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সর্বান্তকরণে এই দোয়াই করি, মেজর জেনারেল মোঃ সাদিকুজ্জামান কাকু এবং সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান কাকুর সম্মান, সামাজিক মর্যাদা, কর্মক্ষেত্রের পরিধি আর গৌরবময় সাফল্য দিন দিন যেন আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। মহান সৃষ্টিকর্তা তাঁদের সর্বদা সুস্থ রাখুন, নিরাপদে রাখুন এবং দীর্ঘজীবী করুন। এই রত্নগর্ভা ও আলোকবর্তিকাসম পরিবারের প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধা, অন্তহীন ভালোবাসা এবং আজীবন কৃতজ্ঞতা।

একই সাথে দোয়া করি, এই পরিবারের প্রতিটি সদস্য যেখানেই থাকুন না কেন, সর্বদা ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং এদেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য এভাবেই আমৃত্যু কাজ করে যান। তাঁদের জীবনের এই বিরল সততা, খাঁটি দেশপ্রেম ও অনন্য কর্মনিষ্ঠা যেন আমাদের সমাজের প্রতিটি ঘরে ঘরে নতুন এক আলো হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিটি পরিবারকে অনুপ্রাণিত করে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর