কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি মো. অহেদ আলীর বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা ও হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে বুড়িচং প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার কণ্ঠনগর গ্রামের মৃত মফিজুল ইসলামের ছেলে মো. রাকিবুল হাসান ফাহিম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের যৌথ মালিকানাধীন একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে বাধা দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে দাবি করা হয়।
রাকিবুল হাসান বলেন, গত ১২ মে কুমিল্লার আদালত থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আদেশ নেওয়া হয়। পরে বুড়িচং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে অভিযুক্তরা সেই নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে ২৪ মে কুমিল্লা সিভিল জজ আদালত সংশ্লিষ্ট ভূমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত ৬ জুন রাত ১২টার দিকে পুনরায় জমিতে কাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর কৃষক দল নেতা অহেদ আলীর নেতৃত্বে নোয়াব আলী, নাজমুল, আবু নাসের, আব্দুল হক, সেলিনা বেগম, মোহাম্মদ আলীসহ আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
এ হামলায় রাকিবুল হাসানের মা রেহেনা বেগম, চাচা শফিকুল ইসলাম, চাচাতো ভাই রাসেল এবং ভগ্নিপতি জাকির হোসেনসহ পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে জাকির হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাকিবুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনার পরও অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি বলেন, “ভূমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে যার অধিকার রয়েছে তাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হোক। একই সঙ্গে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষক দলের সভাপতি মো. অহেদ আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”