২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠের সবুজ ঘাসে অবগুণ্ঠনমুক্ত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে মাঠের বাইরের আরেক তুমুল জনপ্রিয় খেলা। সেই খেলাটি হলো ফুটবল মহাযজ্ঞের ম্যাচগুলোর ফলাফল নিয়ে নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী করা। আধুনিক বিশ্বের বড় বড় নামী গণিতবিদ, বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ, অত্যাধুনিক সুপারকম্পিউটার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানার হরেক রকমের প্রাণী—বিশ্বকাপের উত্তাপ গায়ে মেখে সবাই এখন যেন একেকজন পুরোদস্তুর জ্যোতিষী বনে গেছেন! অতীতে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিখুঁত ও অবিশ্বাস্য ভবিষ্যদ্বাণী করে বিশ্বজুড়ে রীতিমতো মহাতারকা এবং বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল ‘পল’ নামের একটি বিশেষ অক্টোপাস। সেই অবিস্মরণীয় ঘটনার পর থেকে ফুটবলের প্রতি আসরেই বিভিন্ন অবলা পশু-পক্ষীদের দিয়ে বড় ম্যাচগুলোর চূড়ান্ত ফল আগাম অনুমান করিয়ে নেওয়ার এই বিচিত্র ও চিত্তাকর্ষক আয়োজনের প্রতিযোগিতা দেখা যায়।
আগামী ১১ জুন থেকে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগ দিয়ে এবার সেই ভবিষ্যদ্বাণীর রোমাঞ্চকর খেলাটি দারুণভাবে জমে উঠেছে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী গুয়াদালাহারা চিড়িয়াখানায়। সেখানে বিশ্বকাপের বিভিন্ন হাইভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে অদ্ভুত ও মজার সব উপায়ে ভবিষ্যদ্বাণী করিয়ে দর্শকদের বিপুল বিনোদন দিচ্ছে চিড়িয়াখানার নানা বুদ্ধিমান প্রাণীরা। যেমন আগামী ১১ জুনের বহুল আলোচিত মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচটি নিয়ে নিজেদের চেনা স্টাইলে অত্যন্ত চমৎকারভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে চিড়িয়াখানার দুটি বিশালাকার হাতি। এই খেলার জন্য চিড়িয়াখানার ভেতরে তৈরি করা একটি অস্থায়ী ফুটবল মাঠে হাতি দুটির পথচলার সামনে দুটি আলাদা পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। দুই পথেই রাখা ছিল দুই রকমের সুস্বাদু খাবার। যার একদিকে ছিল মেক্সিকোর জাতীয় পতাকা লাগানো তাজা ঘাস, আর অন্যদিকে রাখা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় পতাকা লাগানো সবুজ পাতা। হাতি দুটি কোনো দ্বিধা না রেখে মেক্সিকোর পতাকার পথ ধরে হেঁটে যাওয়ায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ধরে নিয়েছে যে, উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়লাভ করবে স্বাগতিক মেক্সিকো! তবে এখন আসল ফুটবল মাঠে কী ঘটবে, সেটি দেখার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দর্শকরা।
হাতিদের এই আকর্ষণীয় পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই জ্যোতিষীর মঞ্চে হাজির করা হয় দুটি বিশালাকার গরিলাকে। তারা সরাসরি ভবিষ্যদ্বাণী করে আগামী ২৬ জুনের বহুল প্রতীক্ষিত স্পেন বনাম উরুগুয়ে ম্যাচটি নিয়ে। গরিলা দুটির সামনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের জার্সির আদলে বিশেষভাবে তৈরি করা দুটি খাবারের আকর্ষণীয় পাত্র। প্রথম গরিলাটি নিজের জায়গা থেকে একদম না নড়লেও, অন্য গরিলাটি কালবিলম্ব না করে সরাসরি ঝাঁপিয়ে পড়ে উরুগুয়ের জার্সির আদলে গড়া পাত্রটির দিকে। গরিলাটির উরুগুয়ের জয়ের এই স্পষ্ট পূর্বাভাস পেয়ে চিড়িয়াখানার প্রধান কিপার ইভান রেইনেসো অত্যন্ত উল্লাসে চিৎকার করে বলেন, ‘আসন্ন ম্যাচে শেষ পর্যন্ত কে জিতবে, তা আজ স্পষ্ট জানিয়ে দিল আমাদের গরিলা।’
এখানেই শেষ নয় মেক্সিকোর এই প্রাণীদের অদ্ভুত জ্যেতিষচর্চার। এরপর ‘মুলুকু’ নামের একটি চটপটে পুমা (এক ধরনের বন্য বিড়াল) নিজের বুদ্ধিমত্তায় ভবিষ্যদ্বাণী করে জানায় যে, ১২ জুনের ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে অনায়াসে জিতবে এশিয়ার পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া। এ ছাড়া আগামী ২৪ জুনের ম্যাচে শক্তিশালী কলম্বিয়ার বিপক্ষে আফ্রিকান দেশ ডিআর কঙ্গোর এক অবিশ্বাস্য জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে চিড়িয়াখানার ছয়টি লম্বা জিরাফ। ফুটবল বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসবে, এমন বিচিত্র ও হাস্যরসাত্মক আয়োজন সামনে আরও বেশি দেখা যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত যে প্রাণীর নিখুঁত পূর্বাভাস মিলে যাবে, ফুটবল বিশ্বে তার খ্যাতি যে রাতারাতি আকাশচুম্বী হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!