লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে এক ইতালি প্রবাসীর বসতবাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার গত দুই দিন ধরে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী রোজিনা বেগম শনিবার (৬ জুন) রায়পুর থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে ইতালি প্রবাসী মামুন মিজি ঘটনাস্থলে জমি কিনে আধুনিক বাড়ি নির্মাণ করেন। সেই থেকে তার পরিবার সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিল। কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত শুক্রবার সকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে বাড়ির টিনের বেড়ার চারপাশে জোরপূর্বক কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করে। এতে পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি ও লাশ গুম করার ভয় দেখায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগেও গত ডিসেম্বর মাসে বাড়িটি দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে থানায় একটি মামলাও চলমান রয়েছে।
এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে তিনি হলেন এবাদ উল্যা গাজী। তিনি উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। তবে গত ৯ এপ্রিল ২০২৫ সালে রায়পুরে সংঘটিত সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগের অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন শাকিল কবিরাজ, রাছেল হোসেন, ছোটন ছৈয়াল, রায়হান গাজী, ইসমাইল বেপারী, ইয়ামিন দেওয়ানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জন।
ভুক্তভোগী রোজিনা বেগম জানান, প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, “আমরা দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। ঘরের বাইরে বের হওয়া দায়। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আমরা আমাদের জানমালের নিরাপত্তা ও দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আকুল আবেদন জানাই।”
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা এবাদ উল্যা গাজী। তিনি দাবি করেন, “শাকিল কবিরাজ লোকজন নিয়ে বেড়া দিয়েছে। আমি সেখানে সালিশদার হিসেবে উপস্থিত ছিলাম মাত্র, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।” যদিও ভুক্তভোগী পরিবার তার বিরুদ্ধেই প্রধান মদদদাতা হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তি শাকিল কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মান্নান বলেন, “আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”